Trastuzumab Emtansine for HER2-Positive Breast Cancer

সম্প্রতি ক্যান্সার চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। ট্রাস্টুজুমাব এমট্যানসিন (Trastuzumab Emtansine) এখন সরকারি হাসপাতালগুলোতেও ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। এই খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ HER2 পজিটিভ স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের জন্য, কারণ এতদিন এই চিকিৎসার খরচ অনেক রোগীর নাগালের বাইরে ছিল।

HER2 পজিটিভ স্তন ক্যান্সার কী?

স্তন ক্যান্সারের সব ধরনের রোগ একরকম নয়। কিছু ক্ষেত্রে ক্যান্সার কোষের গায়ে HER2 (Human Epidermal Growth Factor Receptor 2) নামে একটি প্রোটিন বেশি পরিমাণে থাকে। এই প্রোটিনের কারণে ক্যান্সার কোষ তুলনামূলক দ্রুত বাড়তে পারে এবং রোগের অগ্রগতি দ্রুত হতে পারে।

বহু বছর আগে ট্রাস্টুজুমাব (Trastuzumab) আবিষ্কারের ফলে এই ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসায় এক নতুন যুগের সূচনা হয়। সেই চিকিৎসার আরও উন্নত রূপ হলো ট্রাস্টুজুমাব এমট্যানসিন

ট্রাস্টুজুমাব এমট্যানসিন কীভাবে কাজ করে?

ট্রাস্টুজুমাব এমট্যানসিনকে বলা হয় একটি অ্যান্টিবডি–ড্রাগ কনজুগেট (Antibody Drug Conjugate)

ধরুন, কোনো শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করতে সাধারণ বোমা ফেলা হলে আশেপাশের নিরীহ এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু যদি একটি “স্মার্ট মিসাইল” থাকে, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য চিনে নিয়ে সরাসরি সেখানে গিয়ে আঘাত করে? ট্রাস্টুজুমাব এমট্যানসিন ঠিক সেই ধরনের লক্ষ্যভেদী চিকিৎসা।

এই ওষুধটির দুটি প্রধান অংশ রয়েছে:

  • ট্রাস্টুজুমাব – যা HER2 প্রোটিনকে চিনতে পারে এবং ক্যান্সার কোষের সাথে যুক্ত হয়

  • একটি শক্তিশালী কেমোথেরাপি ওষুধ (DM1) – যা কোষের ভেতরে গিয়ে ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে

প্রথমে ট্রাস্টুজুমাব HER2 প্রোটিনযুক্ত ক্যান্সার কোষের গায়ে গিয়ে বসে। এরপর পুরো ওষুধটি কোষের ভেতরে প্রবেশ করে এবং ভেতরে থাকা কেমোথেরাপি অংশটি ক্যান্সার কোষকে ধ্বংস করে। ফলে আশেপাশের সুস্থ কোষ তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই কারণেই একে অনেক সময় “মিসাইল-গাইডেড থেরাপি” বলা হয়।

কোন ক্ষেত্রে এই ওষুধ ব্যবহার করা হয়?

ট্রাস্টুজুমাব এমট্যানসিন সাধারণত দুই ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা হয়।

১. অপারেশনের পর পুনরায় ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে

অনেক সময় অপারেশনের আগে ওষুধ দিয়ে টিউমার ছোট করা হয়। যদি অপারেশনের সময় দেখা যায় কিছু ক্যান্সার কোষ এখনও রয়ে গেছে, তাহলে অপারেশনের পরে ট্রাস্টুজুমাব এমট্যানসিন দেওয়া হলে ভবিষ্যতে রোগ ফিরে আসার ঝুঁকি কমানো যায়।

২. যখন ক্যান্সার শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে গেছে

যদি ক্যান্সার শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হয় রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা, রোগীর জীবনকাল বাড়ানো এবং জীবনমান ভালো রাখা। আগের চিকিৎসার পর যদি রোগ আবার বাড়তে শুরু করে, তখন এই ওষুধ অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

সরকারি হাসপাতালে অনুমোদনের গুরুত্ব

এতদিন এই চিকিৎসার বড় বাধা ছিল উচ্চ খরচ। অনেক রোগী চিকিৎসা সম্পর্কে জানলেও আর্থিক কারণে তা গ্রহণ করতে পারতেন না।

সরকারি হাসপাতালে ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়ার ফলে এখন আরও বেশি রোগী এই চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। অনেক ক্ষেত্রে ভারতীয় বায়োসিমিলার সংস্করণ ব্যবহার করা হবে, যা মান বজায় রেখে তুলনামূলক কম খরচে পাওয়া যায়।

সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

এই ওষুধ সাধারণত রোগীরা ভালোভাবেই সহ্য করতে পারেন। তবে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যেতে পারে, যেমন:

  • ক্লান্তি

  • হালকা বমি বমি ভাব বা ক্ষুধা কমে যাওয়া

  • রক্তে প্লেটলেট কমে যাওয়া

  • লিভারের পরীক্ষায় সামান্য পরিবর্তন

  • হাত বা পায়ে ঝিনঝিনি বা অসাড়তা (নিউরোপ্যাথি)

  • খুব কম ক্ষেত্রে হার্টের কার্যকারিতায় প্রভাব

এই কারণে চিকিৎসার সময় নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা, লিভার ফাংশন পরীক্ষা এবং মাঝে মাঝে হার্টের পরীক্ষা করা হয়।

মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট হিসেবে আমাদের প্রধান দায়িত্ব হলো এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং রোগীর চিকিৎসা যেন নিরাপদভাবে চলতে পারে তা নিশ্চিত করা।

ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন যুগ

আজকের দিনে ক্যান্সার চিকিৎসা অনেকটাই বদলে গেছে। আগে চিকিৎসা ছিল তুলনামূলকভাবে সাধারণ ও বিস্তৃত আঘাতের মতো। এখন চিকিৎসাবিজ্ঞান শিখেছে ক্যান্সার কোষকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে লক্ষ্যভেদী চিকিৎসা করতে

ট্রাস্টুজুমাব এমট্যানসিন সেই নতুন যুগের চিকিৎসারই প্রতীক—
নির্ভুল, লক্ষ্যভেদী এবং অনেক বেশি আশাব্যঞ্জক।

HER2 পজিটিভ স্তন ক্যান্সার আক্রান্ত বহু রোগীর জন্য এই চিকিৎসা নতুন আশা নিয়ে এসেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *