Role of Laughter in Cancer Treatment

ক্যান্সারের চিকিৎসায় হাসির ভূমিকা: “লাইফ ইজ স্টিল বিউটিফুল”


MBBS, MD (Radiotherapy), DrNB (Medical Oncology), ECMO

ক্যান্সার মানেই কি শুধু গম্ভীর মুখ, চাপা ভয় আর হাসপাতালের গন্ধ?

অনেকেই তাই ভাবেন।
কিন্তু আমি একটু অন্যরকম ভাবে দেখি।

চিকিৎসার ঘরেও মাঝে মাঝে হাসির খুব দরকার হয়—আর সেই হাসিটা কখনো কখনো ওষুধের মতোই কাজ করে।

একটি ছোট্ট বাস্তব অভিজ্ঞতা

একজন প্যানক্রিয়াটিক ক্যান্সারের রোগী নিয়মিত কেমোথেরাপি নিতে আসতেন।
ভদ্রলোক আগে কলকাতা পুলিশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন—একজন বেশ গম্ভীর, রাশভারি মানুষ।

রোগ ধরা পড়ার পর তিনি আরও চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন। হাসপাতালে এলেই শুধু বলতেন—
“বাড়ি যাবো… বাড়ি যাবো…”

প্রথম দিন থেকেই বুঝেছিলাম—উনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

দ্বিতীয় কেমো সাইকেলের দিন আমি একটু মজা করে বললাম—
“এবার আপনাকে পাঁচদিন ভর্তি রেখে দেবো।”

উনি গম্ভীরভাবেই জিজ্ঞেস করলেন—
“আপনি কি আমার সাথে মজা করছেন?”

আমি বললাম—
“আমার ঘাড়ে কটা মাথা যে আপনার সাথে ঠাট্টা করবো!”

এরপর উনি বললেন—
“আপনার পুলিশ ভেরিফিকেশন কোথা থেকে হয়েছিল?”

আমি হেসে উত্তর দিলাম—
“পাগল! ওইসব কথা আপনাকে বলি নাকি? কথায় আছে—
বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা, আর পুলিশে ছুঁলে বাহাত্তর!”

চারপাশে সবাই হেসে ফেললেন—নার্স, ডাক্তার, রোগীর পরিবারের লোকজন।
আর সেই প্রথমবার, রোগীর মুখেও ফুটলো একটা ছোট্ট হাসি।

সেই দিন থেকেই পরিবর্তনটা শুরু হলো।

হাসি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ক্যান্সারের চিকিৎসা সহজ নয়।
কেমোথেরাপি, রিপোর্ট, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া—সব মিলিয়ে রোগী ও পরিবারের ওপর মানসিক চাপ খুব বেশি থাকে।

এই সময় যদি সবকিছুই শুধু গম্ভীর হয়ে যায়, তাহলে—

  • ভয় আরও বেড়ে যায়
  • মানসিক ক্লান্তি বাড়ে
  • চিকিৎসার পথটা আরও কঠিন হয়ে ওঠে

এখানেই হাসি একটা “ব্রেক” হিসেবে কাজ করে।

  • মনকে কিছুক্ষণের জন্য হালকা করে
  • ভয় কমায়
  • রোগীকে মনে করিয়ে দেয়—
    “আমি এখনও বেঁচে আছি”

ডাক্তার-রোগীর সম্পর্কেও হাসির ভূমিকা

চিকিৎসা শুধু প্রেসক্রিপশন আর রিপোর্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

যখন ডাক্তার আর রোগীর মধ্যে একটু সহজ কথা, একটু হাসি ভাগ হয়—

  • রোগীর ভরসা বাড়ে
  • চিকিৎসার প্রতি আস্থা তৈরি হয়
  • সম্পর্কটা মানবিক হয়ে ওঠে

ক্যান্সারের লড়াই: শুধু ওষুধ নয়, মনও গুরুত্বপূর্ণ

এর মানে এই নয় যে ক্যান্সারকে হালকাভাবে নিতে হবে।
রোগটি গুরুতর, চিকিৎসাও গুরুতর।

কিন্তু—

যদি পুরোটা সময় আমরা শুধু ভয় আর গম্ভীরতায় ডুবে থাকি, তাহলে লড়াইটা আরও কঠিন হয়ে যায়।

ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই হয়—

  • কেমোথেরাপি দিয়ে
  • ইমিউনোথেরাপি দিয়ে
  • টার্গেটেড থেরাপি দিয়ে
    আর… মন দিয়ে

শেষ কথা

হাসি রোগ সারায় না, কিন্তু পথটা সহজ করে দেয়।

মন ভালো থাকলে শরীরও লড়াই করার শক্তি পায়।
আর সেই শক্তিটা তৈরি করতে—একটু হাসিই অনেক সময় বড় ভূমিকা নেয়।

কারণ—

👉 Life is still beautiful.

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *