বায়োপসি করলে কি ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে? সত্যি না ভ্রান্ত ধারণা
ক্যান্সার চিকিৎসকদের কাছে রোগী ও তাঁদের পরিবারের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি শোনা প্রশ্নগুলোর একটি হলো—
“ডাক্তারবাবু… বায়োপসি করলে কি ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ে?”
এই প্রশ্ন নতুন নয়। বহু বছর ধরে মানুষের মনে এই ভয় কাজ করে। অনেকেই মনে করেন, টিউমারের মধ্যে সূচ ঢোকালে ক্যান্সার যেন “রেগে যায়” এবং শরীরের অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে।
কিন্তু সত্যিই কি এমন হয়?
বায়োপসি কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
বায়োপসি হলো একটি পরীক্ষা যেখানে টিউমার বা সন্দেহজনক জায়গা থেকে একটি ছোট টিস্যুর নমুনা নেওয়া হয়। সেই নমুনা মাইক্রোস্কোপে পরীক্ষা করেন একজন প্যাথলজিস্ট।
এর মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে জানা যায়:
এটি সত্যিই ক্যান্সার কি না
ক্যান্সার হলে কোন ধরনের ক্যান্সার
ক্যান্সার কোষের বৈশিষ্ট্য কী
আজকের দিনে শুধু ক্যান্সার আছে কি না জানা নয়, বায়োপসির টিস্যু থেকে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
যেমন—
ইমিউনোহিস্টোকেমিক্যাল (IHC) পরীক্ষা করে জানা যায় ক্যান্সারটি কোথা থেকে শুরু হয়েছে
জেনেটিক বা মলিকিউলার টেস্ট করে জানা যায় কোন মিউটেশনের কারণে ক্যান্সার হয়েছে
সেই অনুযায়ী নির্দিষ্ট টার্গেটেড থেরাপি বা ব্যক্তিগতকৃত চিকিৎসা পরিকল্পনা করা যায়
অর্থাৎ, আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসায় বায়োপসি ছাড়া সঠিক চিকিৎসা শুরু করাই প্রায় অসম্ভব।
তাহলে এই ভয়টা এলো কোথা থেকে?
রোগীদের মধ্যে এই ভুল ধারণা তৈরি হওয়ার পিছনে কিছু কারণ আছে।
১. ক্যান্সার আগেই ছড়িয়ে থাকলেও পরে ধরা পড়া
অনেক ক্ষেত্রে রোগী যখন প্রথম চিকিৎসকের কাছে আসেন, তখন ক্যান্সার ইতিমধ্যেই শরীরের অন্য অংশে ছড়াতে শুরু করেছে।
কখনও কখনও বায়োপসি করার পরে কিছুদিন পর CT স্ক্যান বা PET CT স্ক্যানে সেই ছড়িয়ে পড়া ধরা পড়ে।
তখন অনেকেই মনে করেন—
“বায়োপসির কারণেই ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে।”
আসলে বাস্তবটা হলো, রোগটি আগেই ছড়িয়ে ছিল, কিন্তু পরে তা ধরা পড়েছে।
২. পুরনো দিনের কিছু বিরল ঘটনা
অনেক বছর আগে খুবই বিরল কিছু ক্ষেত্রে Needle Tract Seeding নামে একটি ঘটনা দেখা গিয়েছিল। অর্থাৎ বায়োপসির সূচ ঢোকানোর পথে কিছু ক্যান্সার কোষ থাকার সম্ভাবনা।
তবে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, উন্নত মানের সূচ এবং অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের কারণে আজ এই ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।
আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসায় বায়োপসির ভূমিকা
আজ বিশ্বের বড় বড় ক্যান্সার সেন্টারে প্রতিদিন হাজার হাজার বায়োপসি করা হয়।
কারণ ক্যান্সারের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
সঠিক রোগ নির্ণয়।
আর সেই সঠিক রোগ নির্ণয়ের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপই হলো বায়োপসি।
বায়োপসি না করানোর ঝুঁকি
অনেক সময় ভুল ধারণার কারণে রোগীরা বায়োপসি করাতে দেরি করেন বা এড়িয়ে যান।
এতে বড় সমস্যা হলো—
সঠিক রোগ নির্ণয় হয় না
সঠিক চিকিৎসা শুরু করা যায় না
ক্যান্সার ধীরে ধীরে আরও এগিয়ে যেতে পারে
ক্যান্সারের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথা

